বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আইন ও মানবাধিকার বিভাগের মক-ট্রায়াল অনুষ্ঠিত

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আইন ও মানবাধিকার  বিভাগের মক-ট্রায়াল অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত রাজশাহীর প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আইন ও মানবাধিকার বিভাগের অদম্য প্রচেষ্টায় ৯ম ও ১০ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গত ৩১শে অক্টোবর, ২০২৪, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় মক-ট্রায়াল। আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রচলিত শিক্ষণীয় এই মক-ট্রায়ালে সভাপতিত্ব করেন  আইন ও মানবাধিকার বিভাগের সম্মানিত কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর আবু নাসের মোহাম্মদ ওয়াহিদ। আইন ও মানবাধিকার বিভাগের প্রভাষক মোঃ শামসুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এবং বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকদের প্রচেস্টায় সম্পন্ন হয় এই মক ট্রায়াল। এই মকট্রয়ালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন  বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ডঃ আনন্দ কুমার সাহা।

 

এছাড়াও মক ট্রায়ালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নিম্ন আদালতের সম্মানিত দুইজন বিচারকের উপস্থিতি, যা উপস্থিত সকলকে বিপুল অনুপ্রেরণা প্রদান করে, বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকবৃন্দদের। মক ট্রায়ালের সম্মানিত বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাঃ মহিদুজ্জামান,বিচারক ( সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, রাজশাহী এবং  জনাব মোঃ জিয়াউর রহমান, বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সাইবার ট্রাইব্যুনাল, রাজশাহী।

 

মক ট্রায়ালে  শিক্ষার্থীরা  আইনজীবী ও সাক্ষীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। একটি ক্রিমিনাল ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয় দুটি দলের  মধ্যে। ট্রায়াল শুরু হয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন এবং রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে। এরপর চলতে থাকে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে যুক্তিতর্ক যেখানে সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুইপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দী এবং বিশেষ করে জেরা করবার প্রক্রিয়া। এরপর শুরু হয় একের পর এক সাক্ষ্য প্রমাণ ও আইনি যুক্তি স্থাপন এবং খণ্ডন। বিশেষ করে ট্রায়ালের এ পর্যায়ে, তথা সমগ্র ট্রায়ালেই  শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় নৈপুণ্যে বিচারক মহোদয় অত্যন্ত মুগ্ধ হন। জেরা ও জবানবন্দী শেষে অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে পক্ষদ্বয়ের আইনজীবীদের মধ্যে চলতে থাকে শেষ পর্যায়ের যুক্তিতর্ক এবং কাঙ্ক্ষিত  বিচার প্রার্থনা।

 

 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে শুরু হয় মতবিনিময়, যেটি শুরু হয় বিশেষ  অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর  ড. আনন্দ কুমার সাহার হাত ধরে ।  তিনি আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অতীতের গৌরবোজ্জ্বল কৃতিত্ব ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার স্মৃতি স্মরণ করে এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করবার ও উপস্হিত থাকবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বিচার ব্যবস্থার উপর সকলের আস্থা ফিরে আসুক এই আশা জ্ঞাপন করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন। এরপর মক ট্রায়ালের বিষয়বস্তুর উপর বিশ্লেষণধর্মী মত প্রকাশ করেন মাননীয় দুই বিচারক।  তাদের বক্তৃতায় ফুটে ওঠে আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমন্ডলীর জন্য তুমুল প্রশংসা এবং উৎসাহ। সম্মানিত বিচারক জনাব মোঃ জিয়াউর রহমান খুন এবং নিন্দনীয় নরহত্যার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মামলাটির সম্ভাব্য রায় কি হতে পারে সেই দিকে আলোকপাত করেন।তিনি ডিজিটাল এভিডেন্সের দৃষ্টান্তমূলক প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করেন  এবং মক ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এরপর বক্তব্য রাখেন সম্মানিত বিচারক জনাব মোহাঃ মহিদুজ্জামান। তিনি তার দীর্ঘ বিচারকালীন জীবনের অভিজ্ঞতার কিছু অংশ সকলের সামনে তুলে ধরেন যা আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জীবনমুখী শিক্ষা হয়ে থাকবে। তিনি দন্ডবিধির ধারা ২৯৯, ৩০০, ৩০২ এবং ৩০৪ এর আলোকে মক ট্রায়ালের মামলাটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আর এটি বলাই বাহুল্য যে এমন ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি পেয়ে আইন ও মানবাধিকার বিভাগসহ সমগ্র বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

 

সবশেষে  আইন ও মানবাধিকার বিভাগের কো অর্ডিনেটর প্রফেসর আবু নাসের মোঃ ওয়াহিদ, অত্যন্ত প্রাঞ্জল   এবং তথ্যবহুল বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি  মক-ট্রায়ালের অপরিসীম গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহিত করেন। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক আইন শিক্ষাই নয় বরং বাস্তব জীবনে আইনের প্রয়োগভিত্তিক কার্যপ্রণালী হাতেকলমে শেখার জন্য মক ট্রায়ালের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়াও, কিভাবে জীবনের লক্ষ্য অর্জন করে সফল হওয়া যায়, সে বিষয়ে সবাইকে বিপুলভাবে উৎসাহিত করেন। তিনি মক ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী, কোচ এবং আইন ও মানবাধিকার বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এতো সুন্দর একটি সেশন উপস্থাপনের জন্য।

 

 পরিশেষে, পুরষ্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হয় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত  এই মক-ট্রায়াল। যেখানে বেস্ট রোল প্লেয়ার এবং বেস্ট অ্যাডভোকেট এওয়ার্ড পায় যথাক্রমে মোঃ ইফতিয়ার হক এবং মোসাঃ মিম্মা খাতুন।  এই মক ট্রায়াল নতুনদের জন্য এক অনুপ্রেরণার পাথেয় হয়ে থাকবে বলে আশা করা যায়।