বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বার্ষিক বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৫ অনুষ্ঠিত

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বার্ষিক বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৫ অনুষ্ঠিত

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৫। গত ১৪ নভেম্বর ২০২৫, শুক্রবার পাবনায় মনোরম দুটি রিসোর্ট- রূপকথা রিসোর্ট ও রানা ইকো পার্কে- সারা দিনব্যাপী এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। সকাল ৬:৩০ মিনিটে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে যাত্রা শুরু করে প্রায় ৩০০ জনেরও বেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। ভদ্রা, তালাইমারি ও কাজলা হয়ে যাত্রাপথ অতিক্রম করে দলটি সকাল ৮:৩০ মিনিটে নাস্তার মাধ্যমে দিনের আনন্দঘন পরিবেশে সূচনা করে। পরে সকাল ১১:৩০টায় দলটি পৌঁছে প্রথম গন্তব্য রূপকথা ইকো রিসোর্টে। রিসোর্টের মনোরম পরিবেশ, শিল্পসম্মত সাজসজ্জা এবং সৃজনশীল নকশা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মুগ্ধ করে। এখানে দলীয় ছবি তোলাসহ দেড় ঘণ্টাব্যাপী আনন্দঘন সময় কাটিয়ে সবাই রওনা হয় পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

দুপুর ১:৩০টায় দলটি পৌঁছে রানা ইকো পার্কে, যেখানে শুরু হয় দিনের মূল অনুষ্ঠান। দুপুর ২:০০টায় মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেল ৩:০০টা থেকে শুরু হয় বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর গেমস। মেয়েদের পিলো পাসিং ও বিস্কুট দৌড় এবং ছেলেদের পা বাঁধা অবস্থায় দৌড় ও রশি টানা খেলায় অংশগ্রহণ ছিল বেশ উপভোগ্য ও উত্তেজনাপূর্ণ। বিকেল ৪:০০টা থেকে ৬:০০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমেই সামার ২০২৫ সেশনের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয় ফুলেল শুভেচ্ছায়। এরপর পরিবেশিত হয় গান, নাচ, নৃত্য ও হাস্যরসাত্মক আঞ্চলিক বিতর্ক, যা দর্শকদের মনোরঞ্জন করে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুরস্কার বিতরণী পর্ব। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কোঅর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পরে অনুষ্ঠিত র‍্যাফেল ড্র অংশগ্রহণকারীদের আরও উৎসাহিত করে। দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আয়োজক কমিটির কনভেনার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. জামিল হোসাইন সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সন্ধ্যা ৭:০০টায় বাসে যাত্রা শুরু করে শিক্ষার্থীরা। বাসে পরিবেশন করা হয় সন্ধ্যার স্ন্যাকস। রাত ৯:৩০টায় সকলেই নিরাপদে রাজশাহী ফিরে আসে।

বার্ষিক বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৫ সফলভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছিল অনন্য। ভবিষ্যতেও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ এ ধরনের প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।